বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলের আনারস যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তদবীরে পার পেয়ে যাবার অভিযোগ ধরা ছোঁয়ার বাহিরে লাখাইর যুবলীগ নেতা নোমান বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গরু মৃত্যুর ঘটনায় কৃষককে ১ লাখ টাকা সহায়তা দিল পল্লী বিদ্যুৎ পৃথক অভিযানে ১২ লাখ টাকার চোরাইপণ্যসহ ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বিজিবি লাখাইয়ে পৃথক অভিযানে খুনের মামলার আসামী সহ গ্রেফতার ৩ মাচায় গ্রীষ্মকালীন নানা রঙের তরমুজ চাষে কৃষক আবারও বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে ৪৪ জনকে পুশইন করল বিএসএফ হবিগঞ্জে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ মেলার উদ্বোধন বাহুবলের মহাশয় বাজারে দুঃসাহসিক চুরি ॥ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা নবীগঞ্জের চেয়ারম্যান রানাকে সিলেটে ‘গণপিটুনি’ পুলিশে দিল জনতা
ইসলামে ন্যায়বিচারের প্রতিদান

ইসলামে ন্যায়বিচারের প্রতিদান

হজরত দাউদ (আ.)কে উদ্দেশ করে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে দাউদ, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছি। সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে যথাযথভাবে বিচার করো’। (সূরা সোয়াদ : ২৬)। বদরের যুদ্ধে অনেক কাফির মুসলমানদের হাতে বন্দি হয়।

রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা বন্দিদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো’। অতঃপর আল্লাহর নবি (সা.)-এর এ নির্দেশের পর মুসলমানরা তাদের খাদ্যবস্তু রুটি না খেয়ে শুধু খেজুর খেয়ে ওই রুটি বন্দিদের খেতে দিয়েছিলেন। (আল-ওয়াকিদি)। হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘রাসূল (সা.) আমাকে ইয়েমেনের বিচারক হিসাবে প্রেরণ করেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূল! আপনি আমাকে ইয়েমেনের বিচারক হিসাবে পাঠাচ্ছেন, অথচ আমি একজন যুবক। আর বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা নেই’।

তিনি বলেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমার অন্তরকে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে পথ দেখাবেন এবং তোমাকে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। যখন তোমার কাছে মানুষ বিচার-ফয়সালার জন্য আসবে, তখন তুমি যেভাবে একপক্ষের বক্তব্য শুনবে তেমনি অপর পক্ষের বক্তব্য না শোনা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে না। এতে তোমার সামনে মোকদ্দমার আসল সত্য প্রকাশিত হবে। আলী (রা.) বলেন, অতঃপর আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সন্দেহে পতিত হইনি’।

ইবনে বুরাইদাহ তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সা.) বলেন, ‘বিচারক তিন ধরনের। এক ধরনের বিচারক জান্নাতি এবং অপর দুই ধরনের বিচারক জাহান্নামি। জান্নাতি বিচারক হলো, যে সত্যকে বুঝে ফয়সালা দেয়। আর যে বিচারক সত্যকে জানার পরও স্বীয় বিচারে জুলুম করে সে জাহান্নামি এবং যে বিচারক অজ্ঞতাপ্রসূত ফয়সালা দেয় সেও জাহান্নামি’।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) খেবে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যেদিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন (কিয়ামতের দিন) মহান আল্লাহতায়ালা সাত ব্যক্তিকে আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। সে সাত ব্যক্তির মধ্যে এক ব্যক্তি হলেন ন্যায়পরায়ণ শাসক’।

ইনসাফের নিয়তে বিচারক সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলেও সওয়াবের কথা বলা হয়েছে হাদিসে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘বিচারক যখন তার বিচারকার্য করে এবং আলোচ্য বিষয়ে চূড়ান্ত প্রয়াস পায়, অতঃপর যদি তার রায় সঠিক হয় তবে তার জন্য দুটি সওয়াব। আর যদি সে বিচারে ভুল করে তবে তার জন্য একটি সওয়াব’।

ন্যায়বিচার না করার কারণে পৃথিবীতে অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। ন্যায়ের বিধান সর্বকালের ও সব শ্রেণির পেশার মানুষের জন্য সমান। সব আসমানি কিতাবেও এ নির্দেশনা রয়েছে। নবিজি (সা.) নিজেও আজীবন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এমনকি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পূর্ববর্তী নবি-রাসূলদের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2024 DailyBijoyerProtiddhoni
Design & Developed BY ThemesBazar.Com